'সোঁদামাটি' সাহিত্য পত্রিকা ও 'ঐতিহাসিক মুর্শিদাবাদ' ফেসবুক গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে এই ওয়েবসাইট।

‪বেলডাঙ্গা শহরের উৎপত্তি‬


মুর্শিদাবাদ জেলার দক্ষিণ প্রান্তে ৩৪ নং জাতীয় সড়কের সংলগ্ন ব্যবসাকেন্দ্রিক শহর বেলডাঙ্গা। ১৮ শতকের মধ্যভাগে এক দশক ধরে যে বর্গী আক্রমণ চলে, তার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য রাঢ় অঞ্চলের বহু উচ্চবর্গের অবস্থাসম্পন্ন পরিবার ভাগিরথী নদী পাড় হয়ে ৪কিমি দূরে ভাগিরথীর পরিত্যাক্ত কোনো বিলের উচ্চ ডাঙ্গা ভূমিতে এই জনপল্লীটি গড়ে তোলে। মোগল আমলে ভাগিরথী নদী বরাবর বাঁধ গড়ে ওঠলে এই জলাটি বিচ্ছিন্ন হয়ে বিলে পরিণত হয়। অতীতে এই ডাঙ্গা ভূমিটি একটি বালির চড়া ছিল। কালক্রমে এই বালির ডাঙ্গা চড়া ভূমি হয়ে যায় - বালিডাঙ্গা>বেলেডাঙ্গা>বেলডাঙ্গা। জনশ্রুতি আছে যে, এই বেলডাঙ্গা একসময় নাটরের জমিদারভুক্ত ছিল। পরবর্তিতে ১৭৬০ সাল পর্যন্ত অনিদিষ্টকাল জগৎশেঠদের খাসতালুক ছিল (১১৬১ বর্গ মাইল) এবং তারও পরে কাশিমবাজার রাজাদের জমিদার ভুক্ত ছিল - স্বাধীনতার উত্তরকালে জমিদার প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার আগে পর্যন্ত।

১৯ শতকের প্রথম দিকে থেকে এখানে রেশমকুঠী ও ব্যবসার ধীরে ধীরে প্রসার ঘটতে থাকে। ১৯০৫ সালে রানাঘাট-লালগোলা রেলপথ প্রসারিত হওয়ায় বেলডাঙ্গার শ্রীবৃদ্ধি ঘটে। কয়েক ঘর ধনী ব্যবসায়ী জমিদার পরিবারের উদ্ভব ঘটে। ক্রমে স্টেশন সংলগ্ন একটি চমড়ার ট্যানারি কারখানা গড়ে ওঠে। ১৯৩৩ সালে সেটাই চিনির মিলে পরিণত হয়। চিনির মিলের সুবাদে বেলডাঙ্গার মর্যাদা ও সমৃদ্ধি যথেষ্ট বেড়ে যায়। স্বাধীনতার সময় দেশ বিভাগের ফাঁসে পড়ে চিনির মিলটি বন্ধ হয়ে যায়। শতাধিক বছর আগে থেকে গড়ে ওঠা গরু, ছাগল, চমড়ার বিখ্যাত হাট বেলডাঙ্গাকে ব্যবসাকেন্দ্রে পরিণত করেছে। একসময় এই হাটেই সারা জেলার ৪/৫ হাজার গরু মোষের গাড়ির আমের আমদানি ঘটত প্রতিদিন। বর্তমানে কাপড় ও পোশাকের বিখ্যাত হাট বসে। সেই অতীতকাল থেকে এখনও ব্যবসাকেন্দ্র হিসাবে বেলডাঙ্গা বিদ্যমান।


শেয়ার করুন

No comments:

Post a Comment