'সোঁদামাটি' সাহিত্য পত্রিকা ও 'ঐতিহাসিক মুর্শিদাবাদ' ফেসবুক গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে এই ওয়েবসাইট।

কাশিমবাজার, ‪ শ্রীপুর প্রাসাদ‬ ( বড়ো রাজবাড়ি )



কাশিমবাজার রেল স্টেশনের ১ কিমি পূর্বে শ্রীপুর প্রাসাদ, লোকে বলে কাশিমবাজার বড়ো রাজবাড়ি। অষ্টাদশ শতকের মধ্য-ভাগে এই প্রাসাদ নির্মাণ করেন কৃষ্ণকান্ত নন্দী ও তাঁর পুত্র রাজা লোকনাথ রায়। রাজবাড়ির ভেতরে সিংহী দালান নামে ঘরটি কান্তবাবুর তৈরি করেন কাশীর রাজা চেত সিং-এর প্রাসাদ থেকে পাথরের থাম, খিলান ও অন্যান্য জিনিসপত্র খসে এনে। রানী স্বর্নময়ী রাজবাড়িতে নির্মাণ করেছিলেন লক্ষ্মী জনার্দন মন্দির। পরবর্তীতে রাজবাড়ির প্রবেশ পথের উপর লম্বা পিলারযুক্ত অংশটি তৈরি করেছিলেন মহারাজা মনীন্দ্র চন্দ্র নন্দী।

কৃষ্ণকান্ত নন্দী ছিলেন কাশিমবাজার রাজ পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। যিনি কান্তবাবু বা কান্তমুদী নামে পরিচিত ছিলেন। কান্তবাবু ওয়ারেন হেস্টিং-এর অত্যন্ত প্রিয়পাত্র ছিলেন। কান্তবাবুর পিতা রাধাকৃষ্ণ নন্দীর মুদীর দোকান ছিল। সেখান থেকে ইংরেজ কুঠিতে মুদীর মাল সরবরাহ করা হতো। সেই সূত্রে হেস্টিং সাহেবের সঙ্গে কান্তবাবুর পরিচয় ছিল।
সিরাজউদ্দৌল্লা 1756 সালে কাশিমবাজার কুঠি আক্রমণ করলে কান্তবাবু ওয়ারেন হেস্টিং-কে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন। এবং কাশিমবাজার থেকে গোপনে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন।
পরবর্তীকালে ওয়ারেন হেস্টিং বাংলার গভর্ণর হলে কান্তবাবুর পুত্র লোকনাথ রায়কে দিল্লীর বাদশার কাছে মহারাজা করার সুপারিশ করেন। অতঃপর তাঁর নাম হয় মহারাজা লোকনাথ রায় বাহাদুর।
হেস্টিং সাহেব রংপুর জেলার বাহারবন্ধ পরগণা রানী ভবানীর কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে মহারাজা লোকনাথ রায়কে বন্দোবস্ত করে দেন। এইভাবে তিনি এক বিশাল এলাকার জমিদারী লাভ করেছিলেন এবং গড়ে উঠে কাশিমবাজার রাজ পরিবার। ক্রমশ সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রাসাদ নির্মাণে অাধুনিকতার ছোঁয়া লাগে।


শেয়ার করুন

No comments:

Post a Comment