'সোঁদামাটি' সাহিত্য পত্রিকা ও 'ঐতিহাসিক মুর্শিদাবাদ' ফেসবুক গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে এই ওয়েবসাইট।

‪লালগোলা রেলপথ‬


পরিকল্পনা বারবার হয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। অবশেষে ট্রেন চলল ১লা সেপ্টেম্বর ১৯০৫ সালে রানাঘাট থেকে ভগবানগোলা পর্যন্ত। ঐ বছর ১০ই নভেম্বর রেলপথ সম্প্রসারিত হল কৃষ্ণপুর পর্যন্ত। এখানে থেমে না থেকে ১৯০৭ সালের ১৫ই জুলাই রেল চলল লালগোলা ঘাট পর্যন্ত। রানাঘাট - লালগোলা শাখায় ৭১.২ কিমি রেলপথ রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলার মধ্যে। ১৯১৪ সালের হিসাব অনুযায়ী স্টেশনের সংখ্যা ছিল ১৩টি। পরবর্তিতে সুবর্ণমৃগী হল্ট, সিরাজনগর হল্ট, নিউ বলরামপুর হল্ট বেড়ে স্টেশনের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬টি। তখন লালগোলা থেকে কলকাতা অভিমুখে সারাদিনে চলত তিনটে ট্রেন। সেগুলি লালগোলায় ছাড়ত সকাল ৭টা ২৭মিনিটে, বিকেল ৩টে ৩৮মিনিটে এবং রাত্রি ১১টা ২৮মিনিটে।

একদা রেল আবিষ্কর্তা জর্জ স্টিফেনসনের কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে কলকাতার কিছু মানুষ পরিকল্পনা করেন কলকাতা থেকে ভগবানগোলা পর্যন্ত রেললাইন পাতবে। গঠিত হল সেন্ট্রাল বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি। স্থির করা হয় কোম্পানির মূলধন হবে ১৫ লক্ষ টাকা। বেশ কিছু টাকা তোলা হল,খানাপিনা হল টাউন হলে। কাজের কাজ কিছুই হল না। লোক ও টাকা গায়েব হয়ে গেল। ওই পরিকল্পনা যদি বাস্তব হত তাহলে ভারতে প্রথম রেল চলত মুর্শিদাবাদ জেলার উপর দিয়ে।
আবার ১৮৭৬ সালে আজিমগঞ্জের ধনকুবের রায় ধনপত সিং বাহাদুর নিজ খরচে রানাঘাট থেকে ভগবানগোলা পর্যন্ত রেল লাইন পাতার উদ্যোগ নেন, যা ভাগিরথীর উপর দিয়ে নলহাটি স্টেট রেলওয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে। কিন্তু ওই পরিকল্পনাও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
এভাবেই মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলা রেলপথ নানা বাধার সন্মুখীন হয়েও কলকাতার সঙ্গে সংযুক্ত হয় ১৯০৫ সালে, যা জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আগামীতে আরও মুর্শিদাবাদ জেলার যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের সম্প্রসারণ ঘটবে যেদিন ভাগিরথীর দুপাড়ের ভূখন্ডকে এক করে নশিপুর রেলব্রীজ উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে দিতে পারবে। সেদিনের অপেক্ষায় নবাবী জেলার পিছিয়ে পড়া মানুষ পথ চেয়ে বসে আছে।


শেয়ার করুন

No comments:

Post a Comment