'সোঁদামাটি' সাহিত্য পত্রিকা ও 'ঐতিহাসিক মুর্শিদাবাদ' ফেসবুক গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে এই ওয়েবসাইট।

সোনারুন্দি বনওয়ারীবাদ রাজবাড়ি‬



কাটোয়া-আজিমগঞ্জ লাইনে সালার স্টেশনে নেমে ১০ কিমি পশ্চিমে বর্ধমান জেলার সীমান্ত লাগোয়া মুর্শিদাবাদ জেলার সোনারুন্দি বনওয়ারীবাদ গ্রাম। সোনারুন্দি গ্রামের রাজাদের গৃহ দেবতা বনওয়ারীদেবের নাম থেকে ওই গ্রামের নাম হয় বনওয়ারীবাদ।

বনওয়ারীবাদ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা করেন নিত্যানন্দ দালাল ১১১২ বঙ্গাব্দে ২৮ শে জৈষ্ঠ্য। নিত্যানন্দের বাবা জগমোহন দালাল সোনারুন্দি গ্রামে বাস করতেন। ১৭৫০ সালে সোনারুন্দিতে নিত্যানন্দের জন্ম। অল্প বয়সে তিনি আরবী, উর্দু ওপারসী ভাষায় পারদর্শীতা লাভ করেন। বাদশা সাহ আলম তাঁর ভাষা জ্ঞানে খুসি হয়ে নিজের মীরমুন্সী পদে নিত্যানন্দকে দিল্লীতে নিযুক্ত করেন। সম্রাট তাঁকে দানেশবন্দ উপাধি দেন। তারপর তাঁকে মহারাজা উপাধি দিয়ে সাতহাজারি মনসবদারি পদে নিযুক্ত করেন। তিনি নিজের গ্রামের জনসাধারণের জন্য মন্দির, লাইব্রেরি, বিদ্যালয় নির্মাণ করেছিলেন। ১৮২১ সালে তিনি পরলোক গমন করলে তাঁর বড়ো পুত্র জগদীন্দ্র বনওয়ারীলাল মহারাজা বাহাদুর উপাধি পান। নবাব নাজিমের সুপারিশে লর্ড উইলিয়াম বেণ্টিং তাঁকে মহারাজা উপাধি দিয়েছিলেন। তিনি ব্রহ্মযুদ্ধের সময় ইংরেজ কোম্পানিকে তিন লাখ টাকা এবং কলকাতা স্ট্রাণ্ড রোড নির্মাণের জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা দান করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর ছোট ভাই জগদীন্দ্র বনওয়ারী গোবিন্দ লর্ড ক্যানিং-এর কাছ থেকে মহারাজা উপাধি পান। তারপর থেকেই ওই রাজবংশের পতন শুরু হয়।

ওই রাজবংশের শেষ রাজা বনওয়ারী পছন্দ। তাঁর রানী কল্যাণী সাহেবা বর্তমান রাজপরিবারে একমাত্র জীবিত প্রদীপ। রাজবাড়ির বেশির ভাগ অংশ ভেঙে পড়েছে।
রাজবাড়ির ঠাকুরবাড়ি এখনও দর্শনযোগ্য স্থান। বৃন্দাবনের ন্যায় বিভিন্ন দেব-দেবীর মুর্তি বিদ্যমান আছে। ঠাকুরবাড়ি সংলগ্ন একটা বড়ো দীঘি আছে। সেখানে বহুকাল থেকে রুই, মৃগেল, কাতলা মাছ পোষা হয়। কাউকে কখনও ধরতে দেওয়া হয় না। বাঁধানো ঘাটের পাড় থেকে খাবার ছুড়ে দিলে বড়ো বড়ো মাছেদের দেখা পাওয়া যায়। জন্মাষ্টমী ও রাধাষ্টমী প্রভৃতি বৈষ্ণব পর্বের সময় মাছের পোনা জলে ছাড়া হয়। কখনও কোন মাছ মরে গেলে সেটাকে নিয়ে গিয়ে গঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়। রাজবাড়ির পুকুরে মাছ দেখার জন্য অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে এখনও আসেন।



শেয়ার করুন

1 comment: