'সোঁদামাটি' সাহিত্য পত্রিকা ও 'ঐতিহাসিক মুর্শিদাবাদ' ফেসবুক গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে এই ওয়েবসাইট।

ভাগিরথী নদী ও ফারাক্কা ব্যারেজ প্রকল্প


১৯৭৫ সালের আগের কথা তখনও ফারাক্কা ব্যারেজ প্রকল্প চালু হয়নি। শুখা মরসুমে (জানুয়ারি থেকে জুন) ভাগিরথী নদী অনায়াসে হেঁটে পাড় হতে পারতো যে কেউ। হুগলীতে নদীতে জাহাজ চলাচল হত না। কলকাতা বন্দরে পলি জমায় নদীর নাব্যতা কমে গিয়েছিল। এই পলি ধুয়ে সারা বছর ভাগিরথী তথা হুগলি নদীতে জল ধরে রাখতে ১৯৫৭ সালে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নদী বিজ্ঞানী ডঃ হেনসন পরিকল্পনা দেন ফারাক্কার ব্যারেজ তৈরির।
ডঃ হেনসনের পরিকল্পনানুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলার সীমান্তে ১৯৬১ সালে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। শেষ ১৯৭১ সালে। ফারাক্কা ব্যারেজের দৈর্ঘ্য ২.৬২ কিমি এবং গেট আছে ১০৯টি। অপর পাশে তৈরি হল ১৫টি গেট বিশিষ্ট ২১২.৭ মিটার দৈর্ঘ্যের জঙ্গিপুর ব্যারেজ। এই বাঁধ থেকে ভাগিরথী নদীতে জলপ্রবাহ সরবরাহ করতে কাটা হল ৩৮.৩ কিমি দৈর্ঘ্যের ফিডার খাল। কাজ শেষ হয় ১৯৭৫ সালে। ঐ বছর ২১শে এপ্রিল থেকে বাঁধ চালু হয়। এগুলি তৈরি করতে খরচ হয় ১৫৬.৪৯ কোটি টাকা। শুখা মরসুমে ৪০ হাজার কিউসেক জল হুগলী নদীতে চালিত হতে থাকে। কলকাতা বন্দর ফিরে পায় তার গতি। বাঁধটি তৈরি করেছিল হিন্দুস্থান কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। ফারাক্কা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জল এখান থেকে সরবরাহ করা হয়।
দীর্ঘ ৪১ বছর পর আবার ২০১৬ সালে মুর্শিদাবাদ জেলার কিছু কিছু জায়গায় নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় সহজেই এক বুক জল পেরিয়ে নদী পাড় হওয়া যাচ্ছে। বাপ ঠাকুরদার মুখে শোনা ঘটনার বাস্তব উপলব্ধি পেতে তাই অনেকে ভীড় জমিয়েছে বেলডাঙ্গার কুমারপুর-সাটুই ফেরীঘাটে, বহরমপুর ফরাসডাঙ্গা নদী ঘাটে, শক্তিপুর-রেজিনগর ফেরীঘাটে। বিস্তৃত এলাকা জুড়ে জেগে ওঠা বালির চড়ে ইতিমধ্যে মেলার ভীড় জমে উঠেছে।
ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছরই জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত দু-দেশের মধ্যে জল ভাগাভাগি হয় - আর সেই কারণেই ভাগিরথী নদীর এই হাল।



শেয়ার করুন

No comments:

Post a Comment