'সোঁদামাটি' সাহিত্য পত্রিকা ও 'ঐতিহাসিক মুর্শিদাবাদ' ফেসবুক গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে এই ওয়েবসাইট।

রাজা রামমোহন রায় ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে মুর্শিদাবাদের সম্পর্ক


১৮৩৭ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনস্থ বাংলার সরকারি ভাষা ছিল ফারসি। তাই রাজস্ব আদায় ও বিচারকাজ পরিচালনার জন্য ইংরেজি, আরবি ও ফারসি ভাষা জানা ভারতীয়দের জন্য সরকারি চাকরির সুযোগ ছিল। সাধারণত এই পদাধিকারীরা মুন্সি নামে পরিচিত ছিলেন।
এই সূত্রে রামমোহন রায় ১৮০৩ সালে পিতার মৃত্যুর পর মুর্শিদাবাদের আপিল আদালতের রেজিস্ট্রার টমাস উডফোর্ডের অধীনে মুন্সি পদে চাকরি গ্রহণ করেন। ১৮০৩ থেকে ১৮১৫ পর্যন্ত তিনি এ পদে বহাল ছিলেন। আনুমানিক ১৮০৩-০৪ সালে রামমোহন মুর্শিদাবাদ এসেছিলেন। এখানেই আরবি ও ফারসি ভাষায় একেশ্বরবাদ বিষয়ে তাঁর প্রথম লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিল ‘তুহফাৎ উল মুবাহ‌্‌হিদ্দীন’ - যার অর্থ করলে দাঁড়ায় “A Gift to Monotheism”প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, তিনি জন্ম গ্রহণ করেন অধুনা পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার খানাকুল-কৃষ্ণনগরের নিকটবর্তী রাধানগর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত বৈষ্ণব ব্রাহ্মণ পরিবারে। কিন্তু তাঁদের আদি নিবাস ছিল মুর্শিদাবাদ জেলায় এবং কৌলিক পদবী ছিল
"বন্দ্যোপাধ্যায়"। রামমোহনের অতিবৃদ্ধ প্রপিতামহ কৃষ্ণচন্দ্র প্রথম নবাব সরকারের চাকুরী গ্রহণ করেন। এই সরকারী চাকরি গ্রহণের পর থেকেই তাঁরা "বন্দ্যোপাধ্যায়" পদবীর পরিবর্তে নিজামত প্রদত্ত "রায়" উপাধি দ্বারা পরিচিত হলেন। রামমোহনের পিতামহ ব্রজবিনোদ যথেষ্ট কৃতিত্বের সঙ্গে নবাব আলিবর্দি খাঁর অধীনে চাকরি করেন। মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এর ভাগ্য বিপর্যয়ের পূর্বে ব্রজবিনোদ সম্রাটকে যথেষ্ট সাহায্যও করেছিলেন। ব্রজবিনোদের পঞ্চম পুত্র অর্থাৎ রামমোহন রায়ের পিতা রামকান্ত রায় সিরাজ-উদ-দৌলার অধীনে কিছুকাল চাকরি করার পর অবসর নিয়ে নিজগ্রাম রাধানগরে এসে বসবাস করতে থাকেন।



শেয়ার করুন

No comments:

Post a Comment