'সোঁদামাটি' সাহিত্য পত্রিকা ও 'ঐতিহাসিক মুর্শিদাবাদ' ফেসবুক গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে এই ওয়েবসাইট।

বেলডাঙ্গা ‎শিউনারায়ণ রামেশ্বর ফতেপুরিয়া কলেজ



ব্যবসাকেন্দ্র হিসাবে বেলডাঙ্গার নাম বৃটিশ আমল থেকে ইতিহাস প্রসিদ্ধ ছিল। উচ্চ শিক্ষার জন্য এখানে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। দীর্ঘ প্রায় ২০ কিমি পথ বেরিয়ে বহরমপুরে যেতে হত উচ্চ শিক্ষা নেওয়ার জন্য। কিন্তু সেই সাধ্য বেশির ভাগ পরিবারের ছিল না। আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া এক বৃহৎ জনগোষ্ঠী বসবাস করেন বেলডাঙ্গার বিভিন্ন গ্রামে। এমত অবস্থায় বেলডাঙ্গার উচ্চ শিক্ষা প্রসারের জন্য এগিয়ে এলেন কিছু মহৎ হৃদয় দানবীর ব্যক্তি। বেলডাঙ্গা শহরের প্রসিদ্ধ ব্যক্তি শ্রী রামেশ্বর ফতেপুরিয়া দান করলেন ৩.৫২ একর জমি এবং নগদ ৫০,০০০টাকা কলেজ প্রতিষ্ঠাতার জন্য। ভাবতা গ্রামের অন্যতম এক প্রসিদ্ধ ব্যক্তি হাজী মহম্মদ মহসীন মোল্লা কলেজের গৃহ নির্মাণের জন্য মুক্তহস্তে দান করলেন ১,২০,০০০টাকা। বেলডাঙ্গার স্থানীয় ক্লাব জনকল্যাণ সমিতির সহযোগিতায় কলেজ তৈরির কাজ সম্পন্ন হল। ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হল বেলডাঙ্গা শিউনারায়ণ রামেশ্বর ফতেপুরিয়া কলেজ। শুরু হল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে গ্রাজুয়েট এবং পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ অধীনে আন্ডার গ্রাজুয়েট(H.S) কোর্স।

পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী ১৯৯৯ সালে এই কলেজ নদীয়ার কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলে যায়। বর্তমানে এই কলেজে আর্টস, সায়েন্স ও কমার্স বিভাগে ১১টি বিষয়ে অনার্স এবং ১৫টি সাধারণ বিষয় পঠনপাঠন হয়। ২০০৯ সাল থেকে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের দূর শিক্ষার অধীনে এই কলেজে ৪টি বিষয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েট কোর্স পড়ানো হয়। 
২০১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে দূরবর্তী শিক্ষায় নেতাজী সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাডি সেন্টার হিসাবে ৮টি বিষয়ের পোস্ট গ্রাজুয়েট কোর্স এখানে পড়ানো হচ্ছে।


শেয়ার করুন

1 comment: