'সোঁদামাটি' সাহিত্য পত্রিকা ও 'ঐতিহাসিক মুর্শিদাবাদ' ফেসবুক গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে এই ওয়েবসাইট।

সারগাছি ‪রামকৃষ্ণ মিশন অাশ্রম



রামকৃষ্ণ মিশন একটি মানবকল্যাণকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। ১৮৯৭ সালের ১লা মে রামকৃষ্ণ পরমহংসের প্রধান শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ ও তাঁর গুরুভ্রাতাদের প্রচেষ্টায় কলকাতায় ধর্ম প্রচারের জন্য সংগঠন “রামকৃষ্ণ মঠ” এবং সামাজিক কাজের জন্য সংগঠন “রামকৃষ্ণ মিশন” প্রতিষ্ঠা করেন। রামকৃষ্ণ মিশন জনস্বাস্থ্য, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ত্রাণকার্য, গ্রামোন্নয়ন, আদিবাসী কল্যাণ, বুনিয়াদি ও উচ্চশিক্ষা এবং সংস্কৃতি ক্ষেত্রে সেবামূলক কাজ করে থাকে।

১৮৯৭ সালে স্বামী অখন্ডানন্দ গঙ্গার তীর ধরে পদব্রজে উত্তরের হিমালয়ের দিকে হাটতে লাগলেন। মুর্শিদাবাদে এসে দেখলেন ভয়ানক দুর্ভিক্ষ। দুর্ভিক্ষক্লিষ্টদের দুর্দশা দেখে তিনি আর এগোতে পারলেন না। তাদের সেবার জন্য মঠে চিঠি লিখলেন। মঠ থেকে স্বামীজী দু'জন সেবক ও টাকা পাঠিয়ে দিলেন।অতপর সরকারি রিলিফ কমিটির সাহায্যে ১৫ই মে ১৮৯৭ সাল থেকে দুর্ভিক্ষ মোচন কাজ আরম্ভ হল। এটাই ছিল রামকৃষ্ণ মিশনের প্রথম আনুষ্ঠানিক সেবাকার্য। এই সেবাকার্য ১৮৯৭ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চলেছিল।
দুর্ভিক্ষ-মোচন কাজ চলাকালে অখন্ডানন্দ দু'জন অনাথ বালক নুটুবিহারী দাস, পথকড়ি (বীর ভদ্র)-এর প্রতিপালনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এদেরকে নিয়ে তিনি কেদারমাটি মহুলা গ্রামের মৃত্যুঞ্জয় ভট্টাচার্য্য মহাশয়ের চালাঘরে অস্থায়িভাবে বাস করতে থাকেন ১৮৯৭ সালের ৩১ আগস্ট থেকে। এটাই আশ্রম প্রতিষ্ঠার সূত্রপাত।
১৮৯৮ সালের অক্টোবর মাস থেকে পরের ১৪ বছর আশ্রমটি পাশে অবস্থিত মধুসুন্দরী বর্মণীর দোতলা কাছারি বাড়িতে ছিল।
১৯১২ সালে বহরমপুরের প্রসিদ্ধ উকিল রায়বাহাদুর বৈকুন্ঠনাথ সেনের বিশেষ প্রচেষ্টায় ভাবতার জমিদার হাজী মহরম আলি সাহেব ও হাজী আবদুল আজিজ সাহেব ৫০ বিঘা জমি আশ্রমের জন্য দান করেন। অতঃপর ১৯১৩ সালের মার্চ মাস থেকে আশ্রমটি নতুন জমিতে স্থানান্তরিত হয়। ক্রমে ১৯১৮ সালে গ্রন্থাগার, অনাথ আশ্রম ও অফিস ঘরের জন্য একটি ইটের ঘর তৈরি হয়। ১৯২৯ সালে দোতলা মন্দিরে শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণদেব ও শ্রীশ্রীমা ও স্বামীজীর প্রতিকৃতি স্থাপিত হয়। ১৯৩৩ সালে কলকাতা বাসি বিনোদকুমার দে-এর আর্থিক সাহায্যে 'বিনোদ কুটির' নির্মাণ হয়েছিল। ফলে আশ্রমবাসী ও অতিথিদের বাসস্থানের অভাব দূর হয়। ১৯৫৩ সালে এটি দোতলা হয়। পরবর্তীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়, জুনিয়ার বেসিক ট্রেনিং কলেজ, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৩৩ সালে বেলডাঙ্গা বাসি হাজী মহম্মদ ইউসুফ সাহেব দাতব্য চিকিৎসালয়ের জন্য পাকা ঘর নির্মাণ করে দেন।
২৯ নভেম্বর ২০১৪ সালে ‘স্বামী অখণ্ডানন্দ সায়েন্স সেন্টার’-এর দ্বারোদ্ঘাটন হয়। ওই সায়েন্স সেন্টারের দু’টো ভাগ রয়েছে। একটিতে রয়েছে নানান ‘অলৌকিক’ ঘটনার প্রদর্শনী ও তার কার্য-কারণের ব্যাখ্যা। এই বিভাগটির নামকরণ করা হয়েছে ‘মায়ার অতীত সম্বোধি’। তার পাশের ঘরে রয়েছে ‘বিজ্ঞান অনুশীলন কেন্দ্র’। রাজ্য সরকারের বিজ্ঞান ও কারিগরি দফতরের দেওয়া ৪০ লক্ষ টাকায় ও ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ সায়েন্স মিউজিয়ামস (এনসিএসএম)-এর সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে এই বিজ্ঞান বিভাগ। ২০১৫ সালে মার্চ মাসে অডিটোরিয়াম নির্মান হয়।

এই সব কর্মকান্ড ও স্মরনীয় মহাপুরুষের পুণ্যস্মৃতি বক্ষে নিয়ে সারগাছি রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম আজও জাতি ধর্ম নির্বিশেষে মানুষের কল্যাণ কামনায় নানাবিধ উপায়ে জীব সেবায় নিযুক্ত রয়েছে।


শেয়ার করুন

4 comments:

  1. আমরা আপ্লু, আমরা পশ্চিম বাংলারবাইরে থাকি, আমাদের ইচ্ছা আছে আগামী জানুয়ারি মাসের ৭-৮ তারিখ যদি সম্ভব হয় আশ্রম দেখার সৌভাগ্য হয়।
    প্রণাম জানবেন,
    ঠাকুরএর ভক্ত
    উমাশঙ্কর ব্যানার্জী
    সোনা ব্যানার্জী

    ReplyDelete
  2. এই আশ্রমটি বেলুড়ের শাখা কী??

    ReplyDelete