পৃষ্ঠাসমূহ

চেহেল সেতুন প্রাসাদ



মুর্শিদকুলি খাঁর প্রাসাদের নাম ছিল চেহেল সেতুন। চেহেল-সেঁতু কথাটির মানে চল্লিশটি খিলান্‌। চল্লিশটি খিলান ছিল বলে এই প্রাসাদের নাম চেহেল-সেঁতু। ১৭০৪ সালে রাজস্ব বিভাগের রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে সরে আনার পরই মুর্শিদকুলি খাঁ ওই প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন। 
বর্তমানে মুন্নিবেগমের চক মসজিদটি যেখানে অবস্থিত ঠিক সেখানেই চেহেল সেতুন ছিল। মুর্শিদকুলি খাঁর প্রাসাদটি ভেঙে পড়লে সেখানেই চক মসজিদ ও মতিমহল নামে একটি নতুন প্রাসাদ নির্মিত হয়েছিল। মসজিদটি এখনও আছে, কিন্তু মতিমহলের বেশির ভাগই ভেঙে পড়েছে।

হরিহরপাড়া‪ চোঁয়া নীলকুঠী‬


ব্রিটিশ আমলের অবসান হয়েছে ৬৭ বছর আগে। তার আগে নীলকর কুঠিয়ালরা বিদায় নিয়েছে, সেও শতাধিক বছর আগের কথা। কিন্তু তাদের অত্যাচারের কাহিনী আর আমাদের নীল বিদ্রোহের গর্বিত ইতিহাস মুছে যায়নি। সভ্যমনুষ্য রূপী অসভ্য কুঠিয়ালদের পাশবিক নির্যাতনের হাত থেকে সেদিন মুর্শিদাবাদেরও কৃষকরাও রক্ষা পায়নি। তার জ্বলন্ত উদাহরণ কালের সাক্ষী হয়ে দাঁডিয়ে আছে হরিহরপাড়ার চোঁয়ার নীলকুঠী।

‪‪‪‪বিষ্ণুপুর কালী মন্দির

   

    কাশিমবাজার রেলস্টেশনের প্রায় ১কিমি দক্ষিণে রেললাইনের পাশেই বিষ্ণুপুর নামক স্থানে এই প্রসিদ্ধ কালীমন্দির বিদ্যমান। এটি নির্মাণ করেন  কৃষ্ণেন্দু হোতা নামে এক ধর্মপ্রাণ ব্রাহ্মণ। কৃষ্ণেন্দু হোতা ছিলেন কাশিমবাজার ইংরেজ কুঠীর গোমস্তা। তিনি পলাশীর যুদ্ধ, দেওয়ানী গ্রহণ প্রভৃতি ঘটনার সময় বর্তমান ছিলেন। খাগড়া-সৈদাবাদ থেকে বিল অতিক্রম করে  বিষ্ণুপুর আসার জন্য তিনি সেখানে একটি সেঁতু নির্মাণ করে দেন। আজও সেটা হোতার সাঁকো নামেই প্রসিদ্ধ।

    বিষ্ণুপুরের কালীমন্দির ভগ্নদশা পতিত হলে কাশিমবাজারের স্বর্গীয়া রানী আর-না-কালী দেবী সম্পূর্ন সংস্কার করে দিয়েছিলেন। পরবর্তিতে লালগোলার মহারাজ রাও যোগীন্দ্রনারায়ণ রায় বাহাদুর আবার অতি সুন্দরভাবে এই মন্দির সংস্কার করে দেন। মন্দিরের ভেতরে প্রায় সাড়ে তিন ফুট অর্ধনিম্নজিত দন্ডায়মান কষ্ঠিপাথরের দেবী মূর্তি বিদ্যমান।প্রতি বছর পৌষ মাসের শনি ও মঙ্গলবারে এখানে মেলা বসে।


আদিনাথ মন্দির



রাজা ধনপতি সিং দুগার এবং লক্ষীপতি সিং দুগার, আদিনাথ জৈন মন্দিরটি তৈরী করেন ১৮৭৩ সালে হারেক চাঁদের মাধ্যমে। ভেতরে রয়েছে পরেশনাথ মন্দির । সাদা মার্বেল পাথর দিয়ে তৈরী। পরেশনাথের একটি মূর্তিও আছে সাদা মার্বেলের। লামচি প্রসাদ এটা খুঁজে পেয়েছিল। জৈন ধর্মের উপাষকরা পশু হত্যা করতো না। তাই বড় বড় মাছদের মৃত্যু হলে কবর দিত। সে কবর হত আকৃতিতে তিনকোনা। কাঠগোলা বাগানের ভেতরে এটি অবস্থিত।

হীরাঝিল‬ - নবাব সিরাজের প্রাসাদ‬‬


    বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার স্বপ্নের প্রাসাদটি হলো হীরাঝিল। মুর্শিদাবাদের অদূরে জাফরাগঞ্জের বিপরীতে ভাগীরথী নদীর ওপারে পশ্চিমতীরে নবাব সিরাজের সাধের প্রাসাদ হীরাঝিলটি ছিল। নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যার পরবর্তীতে সর্বস্ব লুটপাটের পাশাপাশি ওই প্রাসাদটি ইংরেজরা ধ্বংস করে দেয়। বাকিটুকু স্রোতধারা ভাগীরথী নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে ভগ্ন চত্বরের কয়েকটি অংশ ছাড়া কোন চিহ্নই আর বিদ্যমান নেই। জানা যায়, মেসো ও মাসি নওয়াজিশ আহমদ ও ঘসেটি বেগম-এর সুরম্য হ্রদবেষ্টিত প্রমোদ কানন মোতিঝিল প্রাসাদের ঐশ্বর্য দেখে নবাবি পাওয়ার পূর্বেই সিরাজউদ্দৌলার ইচ্ছে হলো ভাগীরথী নদীর অপর পারে তিনি গড়বেন আরেক প্রাসাদ। নানা আলীবর্দী খাঁর কাছ থেকে অর্থ নিয়ে তিনি সেই ইচ্ছা পূরণ করলেন ১৭৪৬ সালে এবং প্রাসাদের নাম দিলেন হীরাঝিল।

ওয়াসিফ মঞ্জিল বা নিউ প্যালেস‬



মুর্শিদাবাদের শেষ নবাব ওয়াসিফ আলি মীর্জার বাসস্থান হলো ওয়াসিফ মঞ্জিল বা নিউ প্যালেস বা নতুন প্রাসাদ। এটি দক্ষিণ দরওয়াজা হতে হাজারদুয়ারী প্যালেস যাওয়ার পথে অবস্থিত। সুরেন্দ্র বরাট নামে এক বাঙালী ইঞ্জিনিয়ারের পরিচালনা ও তত্বাবধানে এই প্রাসাদটি তৈরী হয়।

প্রাসাদ সংলগ্ন কৃত্রিম পাহাড় এবং নয়নাভিরাম বাগিচা ছিল, যার অস্তিত্ব এখন নেই। মার্বেল পাথরের বাঁধানো সিড়ি, সুদৃশ্য মর্ম্মর মূর্তিগুলি ও অন্যান্য নকশা নিউ প্যালেসের সৌন্দর্য বাড়িয়েছিল। ১৮৯৭ সালে ১২জুন ভূমিকম্পে তিনতলা এই প্রাসাদের ওপরের তলাটি ভেঙ্গে পড়ে।

নশিপুর রাজবাড়ি


নবাবী আমলের অবসানের পর ব্রিটিশ শাসনকালে যে সব ব্যক্তি জমিদারিত্ব লাভ করেছিলেন তাদের অন্যতম রাজা দেবী সিংহ। তিনি বৃটিশ অধীন বাংলার রাজস্ব বিভাগের একজন দেওয়ান ছিলেন। তার উৎপ্রীরনে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেলে ইংরেজ কোম্পানি খুশি হয়ে জমিদারিত্ব প্রদান করেন। তার উত্তর পুরুষ রাজা কীর্তিচাঁদ ১৮৫৬ সালে এই রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন। 

এর বৈশিষ্ট্য হল এটা হাজারদুয়ারির আদলে তৈরি করা। এই প্রাসাদে বিভিন্ন দেবদেবীর মুর্তি রয়েছে। এখানে উল্লেখ্য রথযাত্রা উৎসবের সময় একটি বড় মেলা ও অনুষ্ঠান হয় এই নশিপুর রাজবাড়িকে ঘিরে। সম্প্রতি এই নশিপুর রাজবাড়ি সংস্কার করে শিল্পী পঞ্চানন চক্রবর্তীর কাজের একটি স্থায়ী প্রদর্শনীকক্ষ রাখা হয়েছে।

নিজামত ইমামবারা



‪‪‪‪হাজারদুয়ারি প্রাসাদের উত্তরে এটি অবস্থিত। ইমামবারাটির দৈর্ঘ্য ২০৭ মিটার। প্রাথমিক পর্যায়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইমামবারাটিকে কাঠ দিয়ে নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু ১৮৪৬ সালে এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ইমামবারাটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। পরবর্তীতে ১৮৪৭ সালে হুমায়ুন জা-এর ছেলে নবাব নাজিম মনসুর আলী ফেরাদুন জা প্রায় সাত লাখ রুপি ব্যায়ে দ্বিতল ইমামবারাটি পুনঃনির্মাণ করেন। ইমামবারার ভেতরে চারদিকে চারকোনায় রয়েছে ময়ূরের দেহ মানুষের মুখ যুক্ত প্রতিকৃতি। যার নাম বুড়গ। ইসলাম ধর্মমতে পয়গম্বর হজরত মহম্মদ বুড়গের পিঠে চেপে স্বর্গে আরোহণ করেছিলেন। ইমামবারার ভেতরে ইমাম হোসেন ও ইমাম হাসানের পরিবারের সদস্যদের নানাবিধ প্রতীকী সামগ্রী রয়েছে। ইমামবারার মোট প্রবেশ দ্বার সাতটি। প্রতি বছর মহরমের মাসের এক থেকে দশ তারিখ পর্যন্ত ইমামবারাটি দর্শণার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয়।


মতিঝিল কালা মসজিদ‬‬‬‬


আলিবর্দি খাঁর জ্যেষ্ঠ জামাতা তথা ঘসেটি বেগমের (মেহেরুন্নেসা) স্বামী নবাব নওয়াজেস মহম্মদ খাঁ সুদৃশ্য মতিঝিলের উত্তর-পশ্চিম পাড়ে ১৭৫০ সালে ‘কালা মসজিদ’ নামে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন, যা মতিঝিল মসজিদ নামে পরিচিত। মসজিদটি তিন গম্বুজ বিশিষ্ট। এছাড়া মসজিদ চত্বরে তিনি মাদ্রাসা ও অতিথিশালা (লঙ্গরখানা) নির্মাণ করেছিলেন। দরিদ্র ও আর্তের সেবার জন্য তিনি মাসে ৩৭,০০০টাকা করে ব্যয় করতেন। কথিত আছে, মতিঝিল মসজিদে সিরাজদ্দৌলার দাদু আলিবর্দি খাঁ নিয়মিত নমাজ পড়তে আসতেন। দাদুর হাত ধরে ছোট্ট সিরাজও মতিঝিল মসজিদে আসতেন। 

‪‪‪‪গজদন্ত শিল্প‬


হাতির দাঁতের কাজের জন্য মুর্শিদাবাদ ছিল বিখ্যাত। সেই নবাবী আমলে ওই গজদন্ত শিল্পের প্রসার ঘটেছিল মুর্শিদাবাদে। কথিত আছে, শৌখীন নবাব সুজাউদ্দিন টুথ-পিক্ অর্থাৎ দাঁতের কাঠি বানানোর জন্য দিল্লী থেকে এক গজদন্ত শিল্পীকে মুর্শিদাবাদে আনিয়েছিলেন। সেই গজদন্ত শিল্পী বাস করতেন জিয়াগঞ্জের কাছে এনাতুলীবাগে। পাছে কেউ শিখে নেয় বলে সেই শিল্পী ঘরের দরজা বন্ধ করে হাতির দাঁতের কাজ করতেন।

‪‪‪মীরমদনের সমাধিক্ষেত্র‬


নবাব সিরাজদ্দৌল্লার অন্যতম বিশ্বস্ত সেনানায়ক ছিলেন মীরমদন। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজদের বিরুদ্ধে কামানের গোলাতে সেখানেই মৃত্যু হয় মীরমদনের। পরে সহযোদ্ধারা গোপনে পলাশী প্রান্তরের পাশেই রেজিনগরের ফরিদপুর গ্রামে ফরিদ শাহ নামে এক পীরের মাজারের পাশে তাঁকে সমাহিত করেন। উল্লেখ্য ফরিদ শাহের নাম থেকে গ্রামের নাম হয় ফরিদপুর। রেজিনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে পশ্চিমে প্রায় দেড় কিমি দূরে ফরিদপুর। মীরমদনের সমাধিক্ষেত্রের একটি সামান্যতম নিদর্শন চিহ্ন ছাড়া আর কিছুই নেই সেখানে।

পলাশীর আম বাগান ও মনুমেন্ট


পলাশীর যুদ্ধের কথা মনে পড়লে আম বাগানের কথা মনে আসে। পলাশীর ওই আম বাগানের নাম ছিল লক্কাবাগ বা লক্ষবাগ। প্রায় এক লক্ষ আমগাছ ছিল বলে একে লক্ষবাগ বা লাখবাগও বলা হোত। বাগানটির দৈঘ্য ছিল ১৬০০ হাত, চওড়া ৬০০ হাত। বাগানের চারদিকে মাটির বাঁধ দেওয়া ছিল যাতে বানের সময় ভাগিরথীর জল না প্রবেশ করে। বাঁধের পাশে ছিল সামান্য খাল। বাগানের উত্তর পশ্চিম কোণে নদীর ধার ঘেঁসে ছিল নবাবদের শিকারের জন্য তৈরি একটা ঘর। তার চারদিকে ইটের প্রাচীর ছিল। ওই বাগানেই ইংরেজ সৈন্য ২২ শে জুন রাতে শিবির করে বিশ্রাম নিয়েছিল। পরের দিন অর্থাৎ ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন ওই আম বাগানের ভিতর থেকেই তারা যুদ্ধ পরিচালনা করেছিল।

খেরুর মসজিদ


মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদিঘি থানার শেখদিঘি গ্রাম লাগোয়া ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের মোড় থেকে দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে খেরুর গ্রাম। খেরুর গ্রামের উত্তর-পূর্ব কোণে আনুমানিক তিন মিটার উচু একটি টিলার উপর খেরুর মসজিদ অবস্থিত।

জরুদ মসজিদ


হাজারদুয়ারির পশ্চিমদিকে ভাগিরথী নদীর তীর ঘেঁসে একটা ছোট মসজিদ আছে। হলদে রঙ করা এই মসজিদটির নাম জরুদ মসজিদ। নবাব সিরাজউদ্দৌল্লা ১৭৫৪ সালে এটি নির্মাণ করেছিলেন। 


রেসিডেন্সি সমাধিক্ষেত্র


কাশিমবাজার বড়ো রাজিবাড়ির কিছুটা উত্তর দিকে ইংরেজদের এই সমাধিস্থান রয়েছে। এখানে ওয়ারেন হেস্টিং-এর প্রথম স্ত্রী মেরী (১৭৫০), শিশুকন্যা এলিজাবেথ (১৭৮৪), ক্যাপ্টেন হ্যারি (১৭৮২) সহ ১৮জনের সমাধি রয়েছে।

মুর্শিদাবাদ জেলা সংগ্রহশালা



জিয়াগঞ্জের নেহালিয়ায় গড়ে উঠেছে মুর্শিদাবাদ জেলা সংগ্রহশালা। সংগ্রহশালাটির প্রাণপুরুষ ছিলেন জিয়াগঞ্জের রায়বাহাদুর সুরেন্দ্রনারায়ণ সিংহ। ১৯৬০ সালে তাঁর নিরলস প্রয়াসে সংগৃহীত প্রত্ন সামগ্রী ও সংগ্রহশালার জমি সরকারকে প্রদান করেন। তখন থেকে শুরু হয় সংগ্রহশালা গড়ার কাজ। বর্তমান রাজ্য পুরাতত্ত্ব বিভাগের সহযোগিতায় সংগ্রহশালাটি মুর্শিদাবাদের পর্যটনের মানচিত্রে উজ্জ্বল স্থান অধিকার করেছে। মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগৃহীত প্রত্নবস্তুগুলি তিনটে সুসজ্জিত কক্ষে এই মিউজিয়ামে প্রদর্শিত হয়েছে।

‪ভট্টবাড়ির ( ভট্টমাটির ) শিব মন্দির‬



খোসবাগ থেকে প্রায় ৬ কিমি পশ্চিমে এবং লাললাগ-নবগ্রাম পাকা সড়ক থেকে প্রায় পাঁচ কিমি পূর্বে ভট্টবাড়ির পঞ্চরত্ন রত্নেশ্বর শিবমন্দির। গৌড়ের বাদশা হোসেন সাহের রাজস্বকালে ৪০০ দক্ষিণী ব্রাহ্মণ বঙ্গদেশে আসেন। হোসেন সাহের প্রধান অমাত্য শ্রীসনাতন গোস্বামী তাঁদের ভাগিরথী তীরের কাছে এই গ্রামে বসবাসের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। ভট্ট ব্রাহ্মণদের বাস ছিল বলে এই গ্রামের নাম হয় ভট্টবাড়ি বা ভট্টমাটি।

‪‎চারবাংলা মন্দির


একই উঠানে চারটে মন্দির আছে। প্রতিটি মন্দির পরস্পরের মুখোমুখি চার কাঠা জমির ওপরে অবস্থিত। প্রতিটি মন্দিরে তিনটে করে খিলান ও তিনটে করে শিবলিঙ্গ আছে। উত্তর ও পশ্চিমের মন্দির দুটি অনবদ্য টেরাকোটার অলংকরণে সমৃদ্ধ। পূর্বদিকের মন্দিরটি পঙ্কের শিল্পকর্মে সমৃদ্ধ।

‪‎‪‎‪‪‪‎ডাচ সমাধিক্ষেত্র



কাশিমবাজার রেল স্টেশনের নিকট কালিকাপুর নামক স্থানে ডাচ বণিকগণের বসতি ছিল। হল্যান্ডের অধিবাসীগণ ডাচ বা ওলান্দাজ নামে পরিচিত। বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ভারতে এসে ১৬০২ সালে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠন করে। তারা মাদ্রাজ্যের নাগাপট্রম, কাশিমবাজার, চুঁচুড়া ও বাকুড়ায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন। তারা এদেশ থেকে রেশমি সুতা, সুতি কাপড়, চাল, ডাল, তামাক ও মসলা রপ্তানি করতো। আর হীরা-জহরতের বিদেশ থেকে মদানি করতো।

‪‎‪‎‪‪জাহানকোষা কামান‬



১৬৩৭ সালে বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকায় জাহানকোষা তোপ নির্মিত হয়েছিল। সেই সময় ঢাকার নাম ছিল জাহাঙ্গীর নগর। মুঘল সম্রাট শাজাহানের রাজত্বকালে (১৬২৭-৫৮ সালে) বাংলার সুবাদার ছিলেন ইসলাম খাঁ। তাঁর অধীনস্থ দারোগা শের মহম্মদের অধীনে হরবল্লভ দাসের তত্ত্বাবধানে জনার্দন কর্মকার এই বিশাল জাহানকোষা নির্মাণ করেছিলেন।

বাচ্চাওয়ালি তোপ



হাজারদুয়ারী প্রাসাদে উত্তরদিকে মদিনার পাশেই রয়েছে একটি বিশাল কামান। একে 'বাচ্চাওয়ালি তোপ' বলা হয়। নবাব হুমায়ুন জা-র সময় এটি ভাগীরথী নদীগর্ভ থেকে উদ্ধার করা হয়।

‪‎‪‎সাদা মদিনা‬



হাজারদুয়ারী প্রাসাদ ও ইমামবারার বিস্তৃত মাঠের মাঝে অবস্থিত সাদা মদিনা। এইটিই সিরাজের সময়ের স্থাপত্যশিল্পের একমাত্র নিদর্শন। সিরাজ নিজে এই মদিনার জন্য কারবালা হতে পবিত্র মাটি মাথায় করে বয়ে এনেছিলেন।

‪‎ফৌতি বা ফুটি মসজিদ



মুর্শিদকুলি খাঁর দৌহিত্র নবাব সরফরাজ খাঁ ( ১৭৩৯-৪০ খ্রিষ্টাব্দ ) এই মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। কিন্তু ১৭৪০ খ্রিস্টাব্দে গিরিয়ার যুদ্ধে তাঁর মৃত্যু হলে ই মসজিদ অসম্পূর্ণ রয়ে যায়।

ছবি : কাটরা মসজিদ‬

ছবি : ১

ছবি : ২

ছবি : ৩

ছবি : ৪

ছবি : ৫

ছবি : ৬

ছবি : ৭

কাটরা মসজিদ‬



সুবে বাংলার ক্ষমতা লাভের পরেই মুর্শিদাবাদের প্রথম নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ একটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদ, মসজিদ চত্বরে সমাধিস্থল, শিক্ষাকেন্দ্র কেন্দ্র ও বাজার নির্মাণের উদ্যোগ নেন। সেই মতো ১৭২৩ সালে ৫টি সুবৃহত্‌ গম্বুজ ও দুটি উচ্চ মিনার বিশিষ্ট বাংলার দ্বিতীয় বৃহত্তম এই মসজিদটি নির্মাণ করেন মক্কার মসজিদের অনুকরণে।

রাজা রামমোহন রায় ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে মুর্শিদাবাদের সম্পর্ক


১৮৩৭ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনস্থ বাংলার সরকারি ভাষা ছিল ফারসি। তাই রাজস্ব আদায় ও বিচারকাজ পরিচালনার জন্য ইংরেজি, আরবি ও ফারসি ভাষা জানা ভারতীয়দের জন্য সরকারি চাকরির সুযোগ ছিল। সাধারণত এই পদাধিকারীরা মুন্সি নামে পরিচিত ছিলেন।

‪‎আড়াইশো বছরের প্রাচীন ঐতিহাসিক রেনট্রি‬


১৭৬৭ সালে বহরমপুরে ব্যারাক স্কোয়ার মাঠ তৈরি করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। মাঠকে সুসজ্জিত করতে চারপাশে লাগানো হয় এই রেনট্রিগুলি। গাছের চারাগুলি এনেছিল ইংরেজরা সুদূর মধ্য আমেরিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে। ডালপালা বিছিয়ে গাছগুলি মাঠের চারপাশে রাস্তায় উপর সুশীতল আস্তারণ তৈরি করেছিল। গ্রীষ্মের প্রখর রৌদ রাস্তায় পরতে দিতো না। এপ্রিল মাসে ছোট ছোট গোলাপী রঙের ফুল ফোটে। গাছগুলি আকারও বিশাল। ১৮৫৭ সালের ব্যারাক স্কোয়ারের সিপাই বিদ্রোহের সাক্ষী ঐতিহাসিক রেনট্রিগুলি আজ ধ্বংস হতে চলেছে। অনেক গাছ ইতিপূর্বে মারা গেছে।  

ভাগিরথী নদী ও ফারাক্কা ব্যারেজ প্রকল্প


১৯৭৫ সালের আগের কথা তখনও ফারাক্কা ব্যারেজ প্রকল্প চালু হয়নি। শুখা মরসুমে (জানুয়ারি থেকে জুন) ভাগিরথী নদী অনায়াসে হেঁটে পাড় হতে পারতো যে কেউ। হুগলীতে নদীতে জাহাজ চলাচল হত না। কলকাতা বন্দরে পলি জমায় নদীর নাব্যতা কমে গিয়েছিল। এই পলি ধুয়ে সারা বছর ভাগিরথী তথা হুগলি নদীতে জল ধরে রাখতে ১৯৫৭ সালে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নদী বিজ্ঞানী ডঃ হেনসন পরিকল্পনা দেন ফারাক্কার ব্যারেজ তৈরির।

ভিডিও : সোনারুন্দি রাজবাড়ি


ভিডিও : সোনারুন্দি রাজবাড়ি 

নসিপুর রাজবাড়ি

ছবি : ১ 


ছবি : ২

ছবি : ৩


ছবি : ৪


ছবি : ৫


চাঁদপুরের ‪ ‎নীলকুঠি



ধ্বংসাবশেষের কঙ্কাল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নওদা ব্লকের পাটিকাবাড়ি চাঁদপুরের  নীলকুঠি। ইংরেজ নীলকর সাহেবদের বাংলার কৃষকের উপর বহু অত্যাচারের কাহিনীর সাক্ষী এই কুঠিটি।


‪বড়নগরে হপ্তপরগণা কাছারি‬ বাড়ি



রানী ভবানীর চারবাংলা মন্দিরের উত্তরে রাজা বিশ্বনাথের অসম্পূর্ণ হপ্তপরগণার (সপ্তপরগণার) কাছারিবাড়ি এটি। রাজা সাতটি পরগণার জমিদারী কার্য পরিচালনার জন্য কাছারিটি নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু তা সম্পূর্ণ করতে পারেননি। বর্তমানে সেটির ভগ্নাবশেষ অংশটি জঙ্গলাবৃত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রাজা বিশ্বনাথ ছিলেন রানী ভবানীর দত্তকপুত্র (পালিতপুত্র) রাজা রামকৃষ্ণের জ্যেষ্ঠপুত্র।



‪কিরীটেশ্বরী মন্দির


মুর্শিদাবাদ জেলার প্রাচীনতম পীঠস্থান কিরীটেশ্বরী। বহরমপুর থেকে ৩৪ নং জাতীয় সড়ক ধরে পলসন্ডার মোড় থেকে লালবাগের সড়ক ধরে কিরীটেশ্বরী যেমন যাওয়া যায়, তেমনি লালবাগ কোর্ট রেল ষ্টেশনে নেমেও যাওয়া যায়। এছাড়া লালবাগ সদর ফেরিঘাট থেকে নৌকা পার হয়ে পশ্চিমে প্রায় ৭কিমি গেলে কিরীটেশ্বরী।

‪সাগরদীঘি‬


মুর্শিদাবাদের সাগরদীঘি ব্লকে সাগরদীঘি নামে এক বিশাল জলাশয় আছে। পূর্ব-পশ্চিমে যার দৈঘ্য প্রায় এক মাইল। আনুমানিক অষ্টম শতকে মহীপালের রাজত্বকালে এই দীঘি খনন করা হয়েছিল।

কাশিমবাজার ছোট রাজবাড়ি

চিত্র - ১

চিত্র - ২

চিত্র - ৩

চিত্র - ৪

চিত্র - ৫

চিত্র - ৬

                                         চিত্র - ৭